ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার কেন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন আইন করতে যাচ্ছে?

  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪
  • ৩৮০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ‘পলিটিক্যাল পার্টিস অ্যাক্ট’ নামের ওই আইনের খসড়া প্রস্তুতের প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।

খসড়া তৈরির পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ওই আইন মেনেই বাংলাদেশে রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল পরিচালনা করতে হবে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

“যারা এই আইন মানবেন না, তারা রাজনীতি করতে পারবেন না,” বিবিসি বাংলাকে বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মি. হোসেন।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হয়।

এক্ষেত্রে কারা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে পারবেন এবং কী ধরনের শর্ত পূরণ করলে নিবন্ধন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা আছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-তে।

২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ওই আদেশ সংশোধন করে এ সংক্রান্ত একটি বিধিমালাও তৈরি করা হয়, যা এখনও কার্যকর আছে।

কিন্তু তারপরও সরকার কেন ‘পলিটিক্যাল পার্টিস অ্যাক্ট’ করতে চাচ্ছে? এই আইনে কী ধরনের বিষয় অন্তর্ভু্ক্ত হতে পারে?

পলিটিক্যাল পার্টিস অ্যাক্ট’ আসলে কী?

‘পলিটিক্যাল পার্টিস অ্যাক্ট’ হচ্ছে এমন একটি আইন, যার মাধ্যমে একটি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রাপ্তি, পরিচালনা ও আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছ্বতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।

এক্ষেত্রে বেশকিছু নিয়ম-নীতি বেঁধে দেওয়া হয়, যা দলগুলো মেনে চলে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, এমনকি নিবন্ধন বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুযোগও থাকে।

এ ধরনের আইন করার ক্ষেত্রে সাধারণত একটি কমিটি গঠন করা হয়, যারা সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আইনের একটি খসড়া তৈরি করেন। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়।

কমিটির সুপারিশক্রমে পরবর্তীতে সেটিকে আইনে পরিণত করা হয়। যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের আইন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাজ্যে আইনটি ‘রাজনৈতিক দল, নির্বাচন এবং গণভোট আইন ২০০০’ নাম পরিচিত। সেখানে নিবন্ধন নেওয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলোর পরিচালনা ও তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ্বতা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিধি অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়মিতভাবে দেশটির নির্বাচন কমিশনের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হয়। যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, দলগুলো বেনামি এবং বিদেশি কোনো দাতার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করতে পারে না।

এছাড়া নির্বাচনি ক্যাম্পেইনসহ যেকোনও প্রচারাভিযান চালানোর ক্ষেত্রেও ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক দলগুলো ওই সীমার উপরে খরচ করতে পারে না।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার কেন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন আইন করতে যাচ্ছে?

আপডেট সময় : ১১:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ‘পলিটিক্যাল পার্টিস অ্যাক্ট’ নামের ওই আইনের খসড়া প্রস্তুতের প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।

খসড়া তৈরির পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ওই আইন মেনেই বাংলাদেশে রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল পরিচালনা করতে হবে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

“যারা এই আইন মানবেন না, তারা রাজনীতি করতে পারবেন না,” বিবিসি বাংলাকে বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মি. হোসেন।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হয়।

এক্ষেত্রে কারা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে পারবেন এবং কী ধরনের শর্ত পূরণ করলে নিবন্ধন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা আছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-তে।

২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ওই আদেশ সংশোধন করে এ সংক্রান্ত একটি বিধিমালাও তৈরি করা হয়, যা এখনও কার্যকর আছে।

কিন্তু তারপরও সরকার কেন ‘পলিটিক্যাল পার্টিস অ্যাক্ট’ করতে চাচ্ছে? এই আইনে কী ধরনের বিষয় অন্তর্ভু্ক্ত হতে পারে?

পলিটিক্যাল পার্টিস অ্যাক্ট’ আসলে কী?

‘পলিটিক্যাল পার্টিস অ্যাক্ট’ হচ্ছে এমন একটি আইন, যার মাধ্যমে একটি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রাপ্তি, পরিচালনা ও আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছ্বতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।

এক্ষেত্রে বেশকিছু নিয়ম-নীতি বেঁধে দেওয়া হয়, যা দলগুলো মেনে চলে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, এমনকি নিবন্ধন বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুযোগও থাকে।

এ ধরনের আইন করার ক্ষেত্রে সাধারণত একটি কমিটি গঠন করা হয়, যারা সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আইনের একটি খসড়া তৈরি করেন। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়।

কমিটির সুপারিশক্রমে পরবর্তীতে সেটিকে আইনে পরিণত করা হয়। যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের আইন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাজ্যে আইনটি ‘রাজনৈতিক দল, নির্বাচন এবং গণভোট আইন ২০০০’ নাম পরিচিত। সেখানে নিবন্ধন নেওয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলোর পরিচালনা ও তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ্বতা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিধি অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়মিতভাবে দেশটির নির্বাচন কমিশনের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হয়। যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, দলগুলো বেনামি এবং বিদেশি কোনো দাতার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করতে পারে না।

এছাড়া নির্বাচনি ক্যাম্পেইনসহ যেকোনও প্রচারাভিযান চালানোর ক্ষেত্রেও ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক দলগুলো ওই সীমার উপরে খরচ করতে পারে না।